সাকিব ও তামিমের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট ও ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ শিরোপা পরিবর্তন হয়েছে, যা জুবিনাদের প্রথম মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হিসেবে চিরকাল মনে রাখা হবে। এছাড়া, নারীদের ফুটবলেও লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজে শিকড়নে। ক্রিকেট ছাড়া, ফুটবলেও নারীরা লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছে। এছাড়া, মেসি-রোনালদোর ইউরোপা ছাড়া, জোকোভিচের রেকর্ড শিরোপা, সিটির ট্রেবল এবং শ্রীলঙ্কার নিষেধাজ্ঞা সহ, গত এক বছরে খেলাধুলায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ঘটনা হয়েছে।

এঞ্জেলো ম্যাথুসের টাইমড আউট বা মুশফিকের অবস্ট্র্যাক্টিং দ্যা ফিল্ড হয়ে উঠতে পারে। গত বছরে, ক্রিকেট দর্শকরা এই অদ্ভুত আউটের সাক্ষী হয়েছেন। ২০২৩-এ মাত্র ম্যাচ খেলার সীমার বাইরেও, তিনি মাঠের বাইরে বিভিন্ন আলোচনায় নিজেকে নেয়ার মোড়ে ছিলেন। হাসি, কান্না, সাফল্য এবং ব্যর্থতা সহ সব অবস্থায় ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অন্যগোছানো অভিজ্ঞতা।

দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে শুরুতেই বক্তব্য করা হোক। যদিও অর্জন এবং সাফল্যের ক্ষেত্রে কিছু কমি থাকতেও, সাকিব ও তামিম দুজনের নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেট জগতে ঘটনার উপর চর্চা ছিল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে তামিম ইকবাল অবসরের ঘোষণা করেছিলেন, যাতে দ্রুতই তামিমকে তার পদ ফিরে আসতে হত। তবে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাহায্য পেয়ে তামিম মাঠে ফিরতে অগ্রসর হন। এই ওপেনারের সঙ্গে সাকিবও মিলে দেশসমুহের জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন, যা টাইগার ভক্তদের জন্য একটি বড় সাফল্য। মাঠের হতশ্রী পারফরম্যান্স দিয়ে তাদের ধাক্কার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। লঙ্কাদ্বীপে ব্যর্থ এশিয়া কাপ মিশনের পর তামিমের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ হওয়া এবং সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপে দুঃস্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত হওয়া, এসব ঘটনা টাইগার ভক্তদের জন্য একটি কাঠিন অধ্যায় হয়ে উঠেছিল।

জাতীয় দলের এই অবস্থানে, যুবকেরা অন্য দিকে এগিয়েছে। ১৯ বছরের তরুণ ক্রিকেটাররা একটু সম্মান অর্জন করেছে এই অসম্ভাব্য সাফল্যের মাধ্যমে, যেখানে অনেক অসফলতা হৈছে। এই বছরেই প্রথমবারের মতো যুব এশিয়া কাপ জিততে অগ্রগতি করেছে।

নারীরা অনুজদের মতো সফলভাবে এক বছর পার করেছেন। তারা ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয় অর্জনে সফল হয়েছিলেন। খুব বড় অর্জন হলো এবং দুই দলের শক্তিমত্তা বিবেচনায় ভারত অধিনায়কের কাছে তাদের উপর জয়ের নজির রেখেননি। হারমনপ্রীতের স্ট্যাম্প ছিল একটি বিতর্কিত সম্পর্ক, এবং এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় অর্জনে বাংলার মেয়েদের চকিত করার সুযোগ দেখা গিয়েছে। নিগার সুলতানা জ্যোতির দল ঘর থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছে।


ক্রিকেটের মতোই ফুটবলও নারীদের হাতে সাফল্য অর্জন করেছে। নেপালকে পেরিয়ে সাফ অনুর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয়বারের মতো জয় অর্জন করেছে। অধিক অর্জন হল না, তবে লেবাননকে পেরিয়ে দিয়ে, সাফের সেমিফাইনালে খেলার মাধ্যমে এবং ফুটবলে র‌্যাঙ্কিং উন্নত করেছেন ছেলেদেরও। তবে, ফুটবলে ছেলেদের জন্য একটি বৃহত্তর অর্জন হলো শেখ মোরছালির দ্বারা। এই তরুণ মিডফিল্ডারটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বছরটা ছি অস্ট্রেলিয়ার একক আধিপত্যের। জুনে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় দিয়ে শুরু, এরপর ইংল্যান্ডর মাটিতে অ্যাশেজ ধরে রাখা, সবশেষ নভেম্বরে ভারতের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নেয়া- অজিদের ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ আরও একবার পেয়েছে বিশ্ব। অন্যদিকে, সে উৎসবের ভিড়ে ঘরের মাঠে ফাইনাল হারার শোক এখনো পোড়াচ্ছে ভারতীয়দের।



ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে বছরটা ছিল পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির। আর্লিং হলান্ডের দানবীয় পারফরম্যান্সে প্রবল পরাক্রম দেখিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলে। প্রথমবারের মতো ট্রেবল জয়ের পর প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপাও এ বছরেই শোকেসে উঠেছে। এতসব অর্জনে উদযাপনের ক্লান্তিও হয়তো কিছুটা ছুঁয়ে গেছে সিটি সমর্থকদের।


মেসি-রোনালদো প্রতি ক্ষণেই তাদের অতীতে একে অপরকে অনুসরণ করে তুলতে হয়েছে। এই দুই উচ্চতম ফুটবল খেলোয়াড়িরা ইতিহাসবহুল ইউরোপিয়ান ফুটবল থেকে এই বছরে বিদায় বিবৃতি দিয়েছেন। এটি একজন সৌদি এবং অপরটি একজন মার্কিন দেশের মানুষের ক্ষুব্ধায় ঘটিত হয়েছে। দুইটি দেশেই এই দুই মহান খেলোয়াড়ির নতুন ঠিকানা দিয়ে এক প্রকার বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। তবে, এই দুই অসাধারণ খেলোয়াড়ির বিদায়ের সাথে সাথে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল একটি কিছুটা কম স্থানের সঙ্গে রঙ হারিয়েছে। ইউরোপিয়ানদের অর্থের উত্সাহে এখন স্পষ্টভাবে সহায় হয়েছে বিশ্ব ফুটবলে।


তবে, যদিও সময়ের সাথে কিছুটা প্রতিরোধ করতে হোক, এই বছরেও বলা হচ্ছে যে, বুড়িয়ে গেলেও, মেসি এবং রোনালদো এই দুইটি শখের অসমাপ্ত রেকর্ড তৈরি করেছে। লিওনেল মেসির অষ্টম ব্যালন কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ১২০০ ম্যাচ, ২০২৩ পঞ্জিকা এই দুজনকে একবার আর অমরত্ব উপহার দিয়েছে। এবং বছর শেষে, রোনালদো হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা, ৫৪ গোল নিয়ে হ্যারি কেন-এমবাপ্পের পেছনে ফেলে।


নোভাক জোকোভিচ অমরত্বের সুখভোগ করেছেন। ২০২৩ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, তারপর ফ্রেঞ্চ ওপেন, এবং সেপ্টেম্বরে ইউএস ওপেনে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে আরও একবার চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছেন। ৩৫ বছর বয়সে তিনি তার ২৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতে পারেন, এবং সার্বিয়ান সুপারস্টার নিজেকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।


তবে 2023 সালে, জকোভিচের মতো সব চুমু শেখানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য এবং সুখের নতুন দিকে পৌঁছানো হয়েছে। কিছুটা বোঝা যায় যে কখনই একটি চুমু সব হারানোর কারণ হতে পারে। এটির একটি উদাহরণ হলো স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের পূর্ব সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস, যেন তিনি মেয়েদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর হারমোসাকে চুমু দিয়ে পদ হারে গিয়েছেন এবং মামলায় অংশগ্রহণের পর তার ক্যারিয়ার বাড়িয়েননি। বাংলাদেশে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি দানি আলভেজ একবার ধর্ষণ মামলার জন্য জেলার ভেতরে বসে অতিক্রম করেন।


এছাড়া, আইসিসিতে সরকারি হস্তক্ষেপে লঙ্কান ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা এবং ফিলিস্তিনিদের উপর চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি, এবং উসমান খাজা এই বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউরোপিয়ান সুপার লিগও এই বছরে আস্তে আস্তে উৎপন্ন হয়েছে। এই সময়ে বিশ্বের যে কোন সময় কি ঘটেছে সেটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।