নব্বইশ দশকের বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ। তার কৌতুকপূর্ণ অভিনয় হিন্দি সিনেমার দর্শকদের ভীষণ আনন্দ দিত। ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’, ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’, ‘আন্টি নাম্বার ওয়ান’, ‘জোড়ি নাম্বার ওয়ান’, ‘রাজা বাবু’, ‘আখিওসে গোলি মারে’, ‘নসিব’ সহ অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। আজ এই অভিনেতার জন্মদিন।

গোবিন্দর জন্ম ১৯৬৩ সালের ২১ ডিসেম্বর

আজ, গোবিন্দ তার ৬০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছেন। তার পূর্ণ নাম গোবিন্দ অরুণ আহুজা। চলচ্চিত্রজগতে তাকে ‘চিচি’ বলা হয়, একটি সম্মাননা যা তার আদরপ্রদ অভিনয় এবং শিল্পকলা জগতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গোবিন্দের বাবা একজন অভিনেতা এবং মা ছিলেন গায়ক। তাঁর বাবা ১৯৪০ সালে মেহবুব খানের ‘অওরাত’ ছবিতে কাজ করেছিলেন। গোবিন্দ বাণিজ্যে স্নাতক পাস করেছেন। তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শেষে বাবা আমাকে চলচ্চিত্রজগতে ক্যারিয়ার গড়তে বলেছিলেন।’ ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া মিঠুন চক্রবর্তীর ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গোবিন্দ নায়ক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যখন চলচ্চিত্রের জন্য চেষ্টা করছিলেন, তখন বিআর চোপড়ার টিভি সিরিজ ‘মহাভারত’-এর প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।


গোবিন্দ ১৯৮৬ সালে ‘লাভ ৮৬’ ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, যার শুটিং শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। একই সময়ে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘ইলজাম’, যা ১৯৮৬ সালে মুক্তি পায়। এর পাশাপাশি প্রধান অভিনেতা হিসেবে গোবিন্দকে ১৯৮৬ সালে ‘তান বদন’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল, যেটিতে তাঁর সঙ্গে ‘খুশবু’ ছিলেন। এভাবে ১৯৮৬ সালটি গোবিন্দের জন্য খুব ‘বিশেষ’ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম সিনেমা হিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোবিন্দ ১টি বা ২টি নয়, ৭০টি চলচ্চিত্র পান। গোবিন্দ সব মেনে নিয়েছিলেন। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিল, ৭০টি ছবির মধ্যে ৮ থেকে ১০টি প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেছে। ইস্যুর কারণে ৪ থেকে ৫ তারিখ ছাড়তে হয়েছে। এরপর অভিষেকের পর তাঁর হাতে ছিল ৪০টি ছবি। গোবিন্দ ‘আওয়ারাগি’, ‘স্বর্গ’, ‘মহাসংগ্রাম’, ‘হাম’, ‘জুল্ম কি হুকুমত’, ‘শোলা অর শবনম’, ‘আঁখে’, ‘রাজা বাবু’, ‘কুলি নং–১’-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন। ‘ওয়ান’, ‘দিওয়ানা মাস্তানা’, ‘সাজন চলে সাসুরাল’, ‘হাসিনা মান জায়েগি’, ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’-এর মতো বহু ছবির মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন। কারিশমা কাপুর ও রবিনা ট্যান্ডনের সঙ্গে তাঁর জুটি খুব পছন্দ হয়েছিল। গোবিন্দ ১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ সুনিতা আহুজাকে বিয়ে করেন। কিন্তু দুজনেই তাঁদের বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান টিনা ও যশবর্ধন। সিনেমার গল্পের মতোই যেন প্রেম হয়েছিল বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর। এক আত্মীয়ের সঙ্গে বাজি ধরে গোবিন্দর সঙ্গে প্রেম করেছিলেন সুনিতা।



এর পর থেকে গোবিন্দ ও সুনিতার মধ্যে প্রেম হয়ে যায়। প্রথম সেই স্পর্শের ঘটনা ছিল মজার। সেদিন তাঁরা একটি মহরতে একসঙ্গে নেচেছিলেন। গোবিন্দ বলেন, ‘পরে আমরা একই গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি চলছিল। হঠাৎ দেখি ওর হাতের স্পর্শ আমার হাতে। কিন্তু সে হাত একইভাবে রেখে দিয়েছে। হাত সরাচ্ছে না। সেদিন আমিও তার হাত ধরি। সেই প্রথম আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ পায়। প্রেমে পড়ার পর গোবিন্দ ও সুনিতা একসঙ্গে ঘুরতে বের হতেন। কিন্তু সেই সময়ে সারাক্ষণ ভয়ে থাকতেন গোবিন্দ। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রথম যখন আমাদের প্রেম হয়, তখন আমার বয়স ছিল ২১ বছর। আর সুনিতার বয়স ছিল ১৪ কি ১৫। আমার কাছে মনে হতো, প্রেম করার জন্য ও বয়সে এতটাই ছোট ছিল যে আমি ভয় পেতাম। কিন্তু ও আমাকে ভালোবাসত। ডেটিংয়ে যেতে চাইত। ওকে বোঝাতাম, “তুমি খুব ছোট। জানো, কী বলছ?” ও বলত, “হ্যাঁ, সব জানি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।” কিন্তু ওর সঙ্গে প্রেম করলে কেউ যদি আমায় শিশু নিগ্রহকারী বলে? এটাই আমার ভয় ছিল। এক টক শোতে নিজেদের প্রেম ও বিয়ের কাহিনি শেয়ার করেছেন গোবিন্দ-সুনিতা। সেখানেই গোবিন্দ জানালেন, মেয়ে টিনার জন্মের আগপর্যন্ত বিয়ের কথা গোপন করেছিলেন তিনি। এই সময় কেউ বিয়ের কথা জানতে চাইলে কী বলতেন?




গোবিন্দ বলেন, ‘আমি দৌড়ে পালাতাম, অন্যদিকে হাঁটতাম, নয়তো দ্রুত প্রসঙ্গ বদলে ফেলতাম। কেবলই মনে হতো, কেউ আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। মনে হতো, কেউ বুঝি আমার পুতুলটা নিয়ে যাবেগোবিন্দের মোট সম্পত্তি সম্পর্কে কথা বললে জানান, এর পরিমাণ প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা