এই দিকে তার সাথে থাকা বন্ধু লায়লার সাথে ঘুষিয়ে যাওয়ার কারণে প্রিন্স মামুনকে আজ চর্চায় আনা হয়েছে। লায়লা হচ্ছে অবশেষে ক্রোধিত এবং তার বিরুদ্ধে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন, যেখানে তার চোখে পড়া খবরের কারণে ও অনেকে বিতর্কিত হয়েছেন। এরপর তাদের মধ্যে হয়ে মিটমাট ঘটতে থাকে। এই দুজনের ঘুষাঘুষি ও মিটমাটের পর্বে জাতি নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কার জন্য দোষ? প্রিন্স মামুনের? লায়লার? এবং আমাদের কপালের দোষ কি না, সেই প্রশ্নে অনেকেই মন্তব্য করছেন।
প্রশ্ন বিভিন্ন ধরণের এবং বিষয়ভিত্তিক। তবে একটি একত্রমত্য আছে, যা হলো প্রিন্স মামুন এবং লায়লার মতো টিকটক ব্যবহারকারীরা প্রায় অর্থহীন শর্টস এবং রিল কিশোর-তরুণদের মধ্যে আগ্রহ প্রদান করছে। এই গোষ্ঠী মাত্রই গিলছে না, তাদের ফলোয়ারগুলি সময়-সময় 'ডে আউট' হয়ে থাকে। আপনাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটনা থাকতে পারে যা মনে রাখতে হবে। টিকটক অপু এবং তার ফলোয়ারদের মধ্যে কিছুজন মারপিট করেছে, এবং রিফাদুল ইলাম বা টিকটক হৃদযে হৃদয় নামে অভিযোগ রয়েছে। ভারতে তিনি ২৬ কিশোরীকে পাচার করেছেন, এটি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে এসেছে। টিকটক হৃদয এই ঘটনার জন্য পরিচিত হতে পারে। টিকটক হৃদযে মোবাইল এপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই সময়গুলির প্রতি সাতত্বিক চর্চা করা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই বলছেন আয়মান সাদিক, তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা এও কমনা যায় না। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বা বিরোধীদের ফলোয়ারও কম নয়। তাদের মধ্যে অনেকে 'সুপার অ্যাচিভার' হিসেবে পরিচিত। এই তরুণদের প্রতি নিয়মিত বিরতি অব্যাহত করে দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের সঙ্গে আলাপ হয় এবং প্রশ্ন করা হয়। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কাজে তারা এগিয়ে থাকতে চাচ্ছেন। আসল কথা হলো, বাংলাদেশের কিশোর-তরুণদেরও অনেকটি রিল্যাক্স বা স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে রুচি প্রকাশ করছেন, এতে প্রিন্স মামুন, লায়লা এবং আমাদের কপালের দোষ নেই।
যা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো এসব শর্টস বা রিলের কোনো নেতিবাচক প্রভাব আমাদের বৃহত্তর জীবনে পড়তে পারে কি না। আমাদের নীতিনির্ধারকদের কিছু করার উদ্দেশ্য কি আছে না তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব সময় এ ধরনের ভিডিওর প্রভাব ইতিবাচক না হতে পারে এবং কোথাও কোথাও রাষ্ট্র এগিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে গত বছর থেকে একরকম তোলপাড় চলছে। আমরা ওয়াশিংটন পোস্ট ‘হাউ টিকটক অ্যাট দ্য ইন্টারনেট’ নামের প্রতিবেদনটির কথা ভাবতে পারি অথবা কংগ্রেসের শুনানির প্রসঙ্গ টানতে পারি।
ক্লাউডফেয়ার, ডাটা এ আই, এবং সেন্সর টাওয়ার হিসাবে, গত বছরে গুগলের চেয়েও বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা টিকটক ব্যবহার করছেন। এই অ্যাপটি সবচেয়ে দ্রুত ১০০ কোটি গ্রাহক অর্জন করেছে, যের মধ্যে ১০ কোটি বাসিতা আমেরিকায় রয়েছে। এই তথ্যটি অ্যাবি রিচার্ডস নামে এক গবেষকের উদ্ধৃতির মাধ্যমে জানা গিয়েছে। তিনি বলছেন যে, এই প্ল্যাটফর্ম পৃথিবীতে কী ঘটছে তা সংক্ষেপে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করছে। টিকটকের বিরুদ্ধে কিশোর-তরুণদের বিপথগামী করার অভিযোগে, সিইও শোও চিউকে হতে হয়েছিল কংগ্রেসে উপস্থিত হতে। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে, কিশোর-তরুণেরা আত্মঘাতী হতে পারে, নিজেদের আত্মঘাত করতে বা তাদের খাওয়াদাওয়া অনিয়মিত হতে পারে, এমন হাজারো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। টিকটক তাদের প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করে সমালোচনার মুখে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে যে বিষয়টি বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে, তা হলো কিশোর-তরুণদের রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছে। ফ্রিডম হাউস জাতিসংঘের একটি জরিপ অনুসারে, ৭৬ শতাংশ তরুণ বলছে, রাজনীতিকে নিয়ে তাঁদের কোনও চিন্তা নেই এবং এই কারণে তাঁরা রাজনীতিবিমুখ। এই সংগঠনটি, আগের প্রজন্মের কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারগুলির বিরুদ্ধে তাদের দৃষ্টিকোণ নিয়ে তুলে ধরেছে এবং বেশিরভাগ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার অর্জন করেছে। তবে, বর্তমান তরুণদের রাজনীতিবিমুখতা ভবিষ্যতে কোনও সুখকর প্রভাব বয়ে আনবেনা বলে মনে হয়। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, তাদের জবাবদিহি নেওয়ার আওতায় যোগদান করার উদ্যোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ডিজিটাল স্পেস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আমার মনে হয়, আমাদের কিশোর-তরুণদের বৈশ্বিক বিষয়গুলির সাথে অমিল। একটি পার্থক্য হলো, বিশ্বের উন্নত, সভ্য দেশগুলি এই সমস্যাগুলি নিয়ে চিন্তা করছে। আমাদের দেশের কিশোর-তরুণদের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না, সে সম্পর্কে ডিজিটাল বাংলাদেশের সরকার জানে না, এ সম্পর্কে কাউকে বিজ্ঞান নেই। আমরা বড়সংখ্যক কিশোর-তরুণদের রুচি, সংস্কৃতি এবং তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করছি এবং হিরো আলম তাদের উদাহরণ দেচ্ছেন। তারা গ্যাং বানিয়ে দুর্বৃত্তপনা করছে, কিন্তু এই তরুণদের পথে দেখানোর জন্য আমাদের দেশে রাজনীতিহীনতা বা অপরাজনীতিক দোষ দেওয়া কোনো গুনাহ হবে না।
হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রটি যদি কোন একটি আসনে বাস করে তার আশা থাকতে পারে যে সে জীবন-যৌবন বড় হয়ে ও রাজনীতি না–ও করতে পারবে। জীবনের শেষে রাজনীতি করা থেকে তাকে কোনো লাভ হয়নি। একটি উদাহরণ দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ক্ষেত্রে। এই চূড়ান্ত অবস্থায় তার পদ হারার পর তিনি সংসদ সদস্য হতে পারবেননি। তার জীবনের শেষকালে যদি ইমরান এইচ সরকার বা নুরুল হক নূররা এমন কোনো ক্ষুদ্র কারণে জ্বলে উঠতে পারতে, তার কোনো প্রতীক্ষা থাকে না।
তবে তরুণদের কোনো ক্ষোভ হয়না, তাদের যদি রাজনীতিতে অংশ নেতে হয়। কিন্তু একই সঙ্গে, শিশু-কিশোর-তরুণদের জন্য কোনো কারগর সংস্থা সঠিক দিকে প্রবৃদ্ধি করতে হলে তাদের কি শেখা পাওয়া যাচ্ছে তা দেখতে হবে। এখানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি একটি উদাহরণ হতে পারে, যেখানে শিশু-কিশোরদের নাচ-গান-ছবি ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে, এই প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই বা তাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কোনো সংস্থা তাদের কোনো উদাহরণ দেওয়া হয়নি। অথচ, তরুণদের রাজনীতিতে যোগদান করলে এই সংস্থাগুলি তাদের কী করতে পারে তা বিচার করতে হবে।
প্রদেশে এখন স্থানীয় স্টেডিয়াম গড়ে গিয়েছে। তবে, এই স্টেডিয়ামগুলি ব্যবহারে বুজতে মুশকিল, একদিকে খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে অসমর্থ, এবং কিছুটা সতর্কতা অনুপস্থিত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এখন কমলাপুর স্টেডিয়ামকে রিকশার গ্যারেজে পরিণত করা হয়েছে। এই কারণে কিছু মাঠ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং খেলোয়াড়রা সব ধরনের অনুশীলনের জন্য অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছে।
রাজনীতিতে তরুণ সমর্থন এবং অংশগ্রহণ দেওয়া সাম্প্রতিক জরিপে প্রকাশিত হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৫৭ শতাংশ তরুণ রাজনীতির দিকে অস্বস্তি প্রকট করছে। এ তরুণদের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার হার প্রায় ৮০ লাখ হয়েছে। তাদের মধ্যে কতজন ৭ জানুয়ারি ভোট দিতে চলেছে, সেটি এখনও অজানা। এই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সুযোগ পাওয়া কম। এই প্রজন্ম রাজনীতি ও প্রক্রিয়াবিধির দিকে আগ্রহী নয়, এবং তাদের দ্বারা কোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করা হয়নি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম অমিত সম্ভাবনা দেখায়, কিন্তু এই সম্ভাবনাগুলি কীভাবে রূপান্তর পাবে, তা বিচার করা অপ্রয়োজনীয়।

0 Comments