সরকারের সমোর্থন এবং উৎসাহ সহ সম্পর্কিত সমস্যাগুলি :
- সমষ্টির অর্থনীতি কেবলমাত্র সঠিক ও প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষয় হতে হবে
- ডলারের একটি নিশ্চিত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে
- সত্ত্বার্থানুসন্ধান গোষ্ঠীকে বাস্তবায়ন করতে হলে সংস্কার প্রয়োজন
১৫ বছর আগে, ২০০৯ সালে, যখন আওয়ামী লীগ প্রথমবার চার বছরের মধ্যে ক্ষমতা অধিগ্রহণ করে, তখন বিশ্ববাজার অর্থনৈতিক সময়ে ছিল। বাংলাদেশ তার অনুভূতির সুফল পেল। পূর্বের দুই বছরে সেনা-সহায়ক সরকার খাদ্যের দামে মহাসংকটে ছিল। তবে, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি সাধারিত হয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে বাংলাদেশ সুফল পেয়েছিল, এবং এটি খাদ্যের দামে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করে। এর ফলে নতুন সরকারের আগামী দিনে বৃদ্ধি হয়নি; বরং, ডিজেল ও সারের দাম কমানো হয়েছে। এটি বোরো ধান চাষকের জন্য লাভবান ছিল।
২০১৪ সালে, এটা তার মতো মসৃণ ছিল না। বিশেষভাবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংঘাতে অর্থনীতির ক্ষতি ব্যাপক ছিল। এর ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আশঙ্কা ছিল। তবে, সহিংসতা হয়েছে এবং এটির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পরিশ্রমকে উৎসাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল। এটির সাথে মিলিয়ে, বড় বড় ঋণগুলির কেলেঙ্কারি অনুভব করেছিল অর্থনীতি, যেমন হল-মার্ক, বেসিক ব্যাংক এবং শেয়ার বাজার। পরবর্তী পাঁচ বছরে, প্রবৃদ্ধি হয়েছে হয়েছে, কিন্তু একই সাথে আর্থিক দুর্বলতা বাড়ছে।
নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি হলো সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই চ্যালেঞ্জের মুকুল দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এখন জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি এই কাজটি কতটা সফলভাবে সঞ্চালন করতে পারবেন।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর যখন আওয়ামী লীগ তৃতীয়বার দায়িত্ব নিয়েছিল, তখন অর্থনীতি সকল সময়ের চেয়েও উন্নত ছিল। তবে, ব্যাংক খাতে স্থিতি নজরদারি করা হয়েছিল আরও সময়গুলি—একইভাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের চুরি হয়েছিল, খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
তবে, এই সময়ে সব কিছু বদলে গেছে। এখন অর্থনীতি প্রায় সমস্ত সূচকেই প্রতিবছর নামতে হচ্ছে। সমস্ত ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অনুসারে, এখন অর্থনীতি একটি ক্রিসিসের সমাপ্তি হয়েছে। এই ক্রিসিস থেকে বের হতে সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এবং অর্থনীতি ক্রিসিস সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ভুল নীতির জন্য অনেক দায়িত্বও আছে।
এই সংকটের মুকুল দিকে টানা চতুর্থ মেয়াদটির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ আছে। প্রথমত, সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য একটি প্রধান কাজ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষয় হতে হবে এবং ডলার বিনিময় হারকে স্থিতিশীল করা হবে। এই উপায়ে যদি কাজ করা হয়, তাহলে বিনিয়োগের পরিবেশ পুনরায় স্থির হতে পারে।
পরবর্তীতে, অর্থনীতিকে আবার প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। এটির জন্য সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প কোনো নাই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ সেই উচ্চ প্রবৃদ্ধির সময়ে প্রবেশ করতে পেরেছিল, তার কারণ হলো সামষ্টিক অর্থনীতি ছিল স্থিতিশীল। তবে, এখন এটি একটি হুমকি হিসেবে রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ষষ্ঠাংশ শেষ হয়েছে। এখন আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এই ব্যাপক সময়ের মধ্যে, সরকারের একটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির উন্নত করা। আগামী বাজেটে অর্থনীতির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন, এটি অর্থনীতিবিদের মতামত। এই ক্রিত উন্নতির মাধ্যমে, সাধারিতা বানিয়ে তোলা যেতে পারে এবং বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন অংশের মধ্যে একটি উদাহরণ স্থাপন করা যেতে পারে।
কোন সূচকের অবস্থা কেমন?
এটি নিশ্চিত যে, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের মধ্যেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল। রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়ে আক্রমণ ছিল অনেক উচ্চ মাত্রায়। মূল্য বৃদ্ধি প্রায় ৫০% আশপাশে ছিল এবং এটি প্রায় ৫% সময়ের জন্য সংগ্রহ করেছিল। তবে, এই সংখ্যাগুলি এখন পুরাতন; আরও গতি নেয়ার জন্য একটি বিশেষ অর্থনীতি পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে আগামী বাজেটে। এটি আমরা বেসরকারি খাত এবং উন্নতি অংশে একটি উদাহরণ স্থাপন করে তাদের দিকে ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করতে পারে।
দেশে মূল্য বৃদ্ধি এখন ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই উচ্চ মূল্য বৃদ্ধি সাধারিত মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করছে। অপরদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার আয়ে ঘাটতির কারণে ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে, আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে, এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছে। এটির ফলে রিজার্ভ কমছে, যা এখন ২০ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩৮ কোটি ডলার। আর সত্যিকার বা নিট রিজার্ভ মাত্র ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম। প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রবাসী আয়ে মাত্র ২ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে, আর রপ্তানিতে এটি আরও কম—মাত্র দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ সময়ে আমদানি প্রায় ২১ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হলো আর্থিক সংকট, যা ৫৪০ কোটি ডলার।
বিনিয়োগে সংকট
রাজনৈতিক অবস্থা, একদিকের নির্বাচন, মানবাধিকার অবস্থা, এবং শান্তির জন্য আদালতে পৌরস্হিত নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য পূর্বের চেয়ে ইতিবাচক। এর ফলে, বাংলাদেশ বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়নি। তাই, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য বহুজাতিক সংস্থার ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা আছে না। এছাড়াও, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ডলার এবং জ্বালানির সমস্যা দূর করা দরকার। ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা খরচ কমানো এবং সরকারি সফলতা অপেক্ষা করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতির মধ্যে, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ থেকে ঋণ নেওয়া এবং দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো সরকারের জন্য জরুরি হয়ে উঠতে পারে।
জাতীয় সংসদে ব্যবসা ক্ষেত্রে বেশি প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অংশগ্রহণ হয়েছিল ৫৭%, এরপর ৫৯% এবং ৬২% ছিল পরবর্তী দুই নির্বাচনে। এবার এটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬৭% হয়েছে। এর ফলে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক সরকারের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এবং কারখানাগুলি দখল করেছে। তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে শুল্ক ছাড় থেকে শুরু হতে ব্যাংকের নীতি পরিবর্তন হয়েছে, তবে ব্যবসা ও বাণিজ্য পরিচালনার উন্নতি এখনো সামান্য। এর ফলে, বিনিয়োগের জন্য বাধা থাকতে থাকতে।
ব্যাংক এককরণ করতে হবে
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করল, তখন দেশে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এখন সেই খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা হয়েছে, যা গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) অনুসারে আর্থিক কেলেঙ্কারি কারণে গত ১৫ বছরে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। এখন দেশের ব্যাংক খাত অর্থ আত্মসাতের ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের দ্বারা ব্যাংক খাত দখল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নতুন মেয়াদে সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে সামলানো, যাতে ব্যাংক খাত রাহুমুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাত নিয়ে একটি কমিশন গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বিশেষজ্ঞদের দ্বারা, যা এখনও একটি প্রয়োজন হিসেবে মনে হচ্ছে।
আইএমএফ এবং আর্থিক সংস্কার
রিজার্ভের ক্রমাগত কমোটে পতনের মুখে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ নেয়েছে। এই ঋণের দুটি কিস্তি বাংলাদেশে প্রাপ্ত হয়েছে। আগামী বছরে আরও দুই কিস্তি ঋণ নেয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এই জন্য সরকারকে সংস্কার করতে হবে, যাতে তাদের প্রধান দাবি পূরণ হতে পারে। এ সংক্রান্তে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন করছাড় কমানো, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা, ভর্তুকি হ্রাস, খেলাপি ঋণ কমানো, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদের তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করা, ব্যাংক খাতের তদারকিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি সুদহারের কাঠামো ঠিক করা; রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ঝুঁকি কমানো ইত্যাদি।
তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এতে বেশি বেশি কঠিনাই থাকতে পারে। যেমন, সরকারের ঋণ নেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনা, সরকারি ব্যয়ের গুণমান বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়া, পুঁজিবাজারকে স্বচ্ছ করা ইত্যাদি। সুতরাং, এ সংক্রান্ত সকল পদক্ষেপের তালিকা প্রস্তুত থাকতে হবে, যেগুলি নাড়ায়নযোগ্য হবে তার উপর মন্তব্য দেওয়ার জন্য। ১৫ বছরে বাংলাদেশে একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি গড়ে উঠেছে, যা বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। এ পরিস্থিতিতে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান পরার্থপরতার অর্থনীতি বইয়ে লিখেছিলেন, ‘আধুনিক রাষ্ট্রের ভাগ্যবিধাতা শাসকরাও নয়, জনগণও নয়। এ রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে বিশেষ স্বার্থের গোষ্ঠীসমূহ। অর্থনীতিবিদ অলসন এসব গোষ্ঠীকে আখ্যায়িত করেছেন ‘‘বণ্টনমূলক জোট’’। এদের উদ্দেশ্য সমাজের কল্যাণ নয়, আত্মকল্যাণ; এরা উৎপাদন বাড়াতে চায় না, বণ্টনব্যবস্থায় নিজেদের বখরা বড় করতে চায়। এ ধরনের স্বার্থগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের জোট, পেশাদারদের সমিতি এবং কর্মচারী ও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন। যে কোন সংস্কার প্রবর্তিত হলেই কোন না কোন বণ্টনমূলক জোটের স্বার্থ হুমকির সম্মুখীন হয়। কোন গোষ্ঠীই তাদের স্বার্থের ব্যাপারে আদৌ কোন আপোষ করতে রাজি নয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় লেনিনগ্রাডের রণক্ষেত্রে রুশ সৈন্যরা দেশমাতৃকার জন্য যে আবেগ ও ঐকান্তিকতা নিয়ে যুদ্ধ করেছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি হিংস্রতা নিয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছে কায়েমী স্বার্থবাদীরা।’
বাংলাদেশের অবস্থা এখন এ রকমই। এতে আইএমএফের শর্ত মেনে সংস্কার করা হোক বা না, তা হলেও সংস্কার করা কঠিন হতে চলবে। যেমন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই বলে দিয়েছেন যে আইএমএফের শর্ত মেনে রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় যাঁরা এত দিন ধরে করছাড় পেয়ে আসছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন, ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, সংস্কারের প্রধান প্রতিবন্ধকতা তাঁরাই।
কী করা উচিত?
নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল হাসান মাহমুদ আলী নিযুক্ত হয়েছেন। এইয়াত্রা একটি নতুন দায়িত্ব তার উপর আসছে, কারণ পূর্বে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করতেন। এখন, সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিজের কাজটি ভালোভাবে করতে হবে এবং সারা বিশ্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। এই কাজে জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ দেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে, এখন একটি অস্বাভাবিক প্রস্তুতি উত্পন্ন হয়েছে এবং তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
পূর্বের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম ওও মন্তব্য করেছেন এবং এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এটি নতুন সরকারের প্রাথমিকতা হতে হবে এবং তারা মনে করছেন যে, এই চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে শিল্প ও কৃষি খাতে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। তাদের অনুসারে, কৃষি উৎপাদন বাড়লে জিনিসপত্রের মূল্য বাড়বে না এবং সুতরাং বাজারে তদারকি বাড়তে হবে এবং প্রতিস্থানে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা তৈরি করতে হবে। অতএব, আমদানি বা খুচরা প্রসারে সিন্ডিকেট গঠন হতে দেওয়ার মতো এই সময়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শামসুল আলম আরও কথা বলেছেন, গত এক-দেড় বছরে ডলারের মূল্য ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং এটি আমদানি মূল্যও বাড়াচ্ছে। এটি কারণে রাজস্ব বেড়েছে এবং এখন শুল্ক কমানোর সময় এসেছে। এ ছাড়া, হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অর্থ আনতে হবে আর ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে অর্থ আনতে বেশি জোর দিতে হবে। খেলাপি ঋণ বিচার-বিশ্লেষণ একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে এবং এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের কারণ এবং তার বিচার-বিশ্লেষণে একটি বিশেষজ্ঞ দল অংশ হতে পারে। খেলাপি ঋণ বাড়ছে কেন, তা প্রতি মামলায় 'কেস টু কেস' ভিত্তিতে বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত। ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে একাধিক যৌক্তিক ফ্যাক্টর থাকতে পারে, এবং কিছু খেলাপি ঋণে তার পিছনে যথেষ্ট কারণ অনুপস্থিত থাকতে পারে। এই মূল্যায়নে দেশের অথবা বিদেশে এই টাকার ব্যবহারের উদ্দেশ্য দেখতে একটি কমিটির প্রয়োজন।

0 Comments